ডালিমের উপকারিতা ও অপকারিতা

ডালিম, বেদানা বা আনার (Pomegranate) যা শুধু খেতেই সুস্বাদু নয় ঔষধি গুনে ভরপুর। ডালিমের যেমন অনেক উপকারিতা রয়েছে ঠিক পাশাপাশি অপকারিতাও  রয়েছে। টকটকে লাল বীজে ভরপুর ডালিম দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, রক্তশূন্যতা দূর করে এবং হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ছবি

আমাদের দেশে ডালিম এর মূল্য একটু বেশি থাকায় অনেকে খেতে পারে না। তবে মূল্য উপেক্ষা করে যদি এর পুষ্টিগুণ কে প্রাধান্য দেওয়া যায় তাহলেই একমাত্র এর প্রকৃত গুণাগুণ আহোরণ করা সম্ভব। নিচে ডালিমের উপকারিতা ও অপকারিতা তুলে ধরা হলো।


ডালিমের উপকারিতা

  1. হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়ক:  ডালিমে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বাড়াতে সাহায্য করে, ফলে ধমনিতে চর্বি জমে যাওয়ার ঝুঁকি কমে যায় এবং হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখে।
  2. হজম শক্তি বৃদ্ধি করে: ডালিমে থাকা ডায়েটারি ফাইবার হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়। এছাড়াও ডালিমের বীজে থাকা আঁশ (dietary fiber) কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে সেই সাথে মলত্যাগ নিয়মিত রাখতে সহায়তা করে।
  3. রক্ত বৃদ্ধি করে: ডালিমে প্রচুর পরিমাণে আয়রণ (লোহা) থাকে যা আমাদের শরীরের হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করে ও রক্তসল্পতা (অ্যানিমিয়া) দূর করতে সাহায্য করে।
  4. ত্বক ও চুল: ডালিমে (Pomegranate) প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, এবং পলিফেনলস থাকে। যা আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সহায়তা করে সেই সাথে চুল পড়া রোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও বার্ধক্যের ছাপ কমায়, পিম্পল ও ব্রণ কমায়, ত্বক আর্দ্র রাখে, রোদে পোড়া ত্বক সারায় ইত্যাদি।
  5. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: ডালিমে থাকা অসংখ্য উপাদান যা আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালি করতে সাহায্য করে। ডালিমে ভিটামিন C থাকে, যা শরীরে শ্বেত রক্তকণিকা (white blood cells) তৈরি ও সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। এটি সংক্রমণ ও ভাইরাস প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। ডালিমের রস ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে, ফলে সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা বা মৌসুমি সংক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা পাওয়া যায়। এছাড়াও ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ও আর্থ্রাইটিস প্রতিরোধে সহায়ক।
  6. ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে: বিজ্ঞানীগণ প্রমাণ করেছেন যে ডালিমে থাকা পলিফেনল, ফ্ল্যাভোনয়েড ও অ্যান্থোসায়ানিন ক্যান্সার কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ছড়িয়ে পড়া রোধ করে। বিশেষ করে স্তন, প্রোস্টেট ও কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে ডালিমের কার্যকারিতা অপরিসীম।
এছাড়াও আরও অনেক উপকারিতা রয়েছে যা আমাদের সুস্থ দেহ গঠনে ভূমিকা রাখে।
  
ছবি

ডালিম অনেক পুষ্টিকর ও উপকারি ফল হলেও অতিরিক্ত খেলে বা কিছু ্অবস্থায় এর অপকারিতা রয়েছে। নিচে তা তুলে ধরা হলো...

ডালিমের অপকারিতা

  1. রক্তচাপ হ্রাস করে: যাদের লো ব্লাড প্রেশার সমস্যাটি রয়েছে তাদের জন্য অতিরিক্ত ডালিম খাওয়া ঝুকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কেননা ডালিমের রস অ্যাঞ্জিওটেনসিন কনভার্টিং এনজাইম (ACE)-এর কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, যা সাধারণত রক্তচাপ বাড়ায়। 
  2. হজমে ব্যাঘাত ঘটায়: ডালিম সাধারণত হজমে সহায়ক তবে খালি পেটে খেয়ে থাকলে  এতে থাকা ট্যানিন (tannin) নামক যৌগ পাকস্থলীতে অম্লতা (acidity) ও গ্যাসের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই ডালিম পরিমাণমতো, বিশেষ করে খাবারের পর খাওয়াই হজমের জন্য সবচেয়ে উপকারী।
  3. ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ঝুকি: ডালিমে থাকা প্রাকৃতিক চিনি অতিরিক্ত সেবনের ফলে দেহে রক্তের শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয় যা ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
  4. ওষধের সাথে  প্রতিক্রিয়া: ডালিমের রস কিছু ওষধের সাথে প্রতিক্রিয়া করে বিশেষ করে ব্লাড প্রেশার ও কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রণের ওষুধ এর সাথে। তাই যারা উক্ত ওষধ গুলো নিয়মিত সেবন করে থাকেন তারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ডালিম খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
  5. চুলকানি হওয়ার ঝুকি: ডালিম খেলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে চুলকানি দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে ডালিম খাওয়া থেকে বিরত থাকায় উত্তম। 
আসুন সমাজের মানুষের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা গড়ে তুলি, সুস্থ ও সুন্দর জীবন গড়ি।





















এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

BD Health Net এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url